শেখ হাসিনা – জার্মান চ্যান্সেলর বৈঠক

0
32

গিরি-সৈকত ডেস্ক :

বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা  জার্মান চ্যান্সেলর মেরকেলই এর সাথে বৈঠক করেছেন।

মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সের ফাঁকে শনিবার মিউনিখের বাইরিশার হফ হোটেলে দুই নেতার এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। ‌

পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান।

তিনি বলেন, “মেরকেলই রোহিঙ্গা ইস্যু  বিষয়ে জানতে চেয়েছেন।”

প্রধানমন্ত্রী জার্মান চ্যান্সেলরকে বলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসার পর থেকে বাজে অবস্থার মধ্যে রয়েছে।

কক্সবাজারে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার আশ্রয় নেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এর প্রভাব ওই এলাকার পরিবেশ ও পর্যটনের উপরও পড়ছে। “পরিবেশ ও মানবিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

কক্সবাজারে গাদাগাদি করে থাকা রোহিঙ্গাদের ‘মানবিক কারণেই’ ঠেঙ্গারচরে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা হয়েছে বলে জার্মান চ্যান্সেলরকে জানান।

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা গত কয়েক দশক ধরে কক্সবাজারে শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করছে, বাইরেও আছে অনেকে। সব মিলিয়ে এই সংখ্যা ৫ (পাঁচ ) লাখেরও বেশি।

কক্সবাজার ও সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিপুল সংখ্যক এই শরণার্থীদের অন্তরায় হিসাবেও দেখা হচ্ছে। এই রোহিঙ্গারা নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।

প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বলেন, “তাদের জন্য একটা জায়গা ঠিক করা হয়েছে। তাদের সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দিয়ে সাময়িকভাবে রাখা হবে ওখানে।”

এজন্য তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানান প্রেস সচিব এহসানুল করিম।

তিনি জানান, জার্মান চান্সেলরের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ‘অত্যন্ত সৌহাদ্যপূর্ণ’ পরিবেশে এক ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠক হয়।

09

মেরকেল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তার অঙ্গীকার করেন তিনি।

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক আগামীতে আরও জোরদার হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন জার্মান চান্সেলর।

বৈঠকে দারিদ্র্য বিমোচন ও শিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রগতি নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয় ।

বাংলাদেশে একশটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত ও হাইটেক পার্ক স্থাপনের কথাও তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জার্মানীর কোম্পানীগুলো এর সুবিধা নিতে পারে।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “এক্ষেত্রে দুই দেশ এক সাথে কাজ করবে।”

শ্রমিকদের উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে ইপিজেডগুলোতে ট্রেড ইউনিয়ন করার অনুমতি দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

এহসানুল করিম জানান, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে মেরকেলকে আমন্ত্রণ জানালে তিনি তা গ্রহণ করেছেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে জার্মানির সমর্থনের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন শেখ হাসিনা।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন।