জাম্বুরী পার্কের উদ্বোধন

0
85

জাম্বুরী পার্কের উদ্বোধন
জমজমাট এবং বনার্ঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জাম্বুরী পার্কের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার বিকালে অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সিডিএ’র চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ সালাম ও গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নগরীর বাণিজ্যেক এলাকা আগ্রাবাদের বিশাল এলাকা জুড়ে গণপূর্ত বিভাগের উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে জাম্বুরি পার্ক। আগ্রাবাদ শিশু পার্কের পাশে বৃহৎ পরিসরের এ পার্ক করা হয়েছে। ৮ দশমিক ৫৫ একর জমির ওপর বিশাল এলাকাজুড়ে এ পার্ক করতে ব্যায় হয়েছে ২০ কোটি টাকা।

কর্তৃপক্ষ জানান, জাম্বুরী পার্কে রয়েছে সাড়ে তিনফুট গভীরতার বিশাল কৃত্রিম লেক। এর পাড়ে পাড়ে দৃষ্টিনন্দন ফলদ ও বনজ গাছ। আছে বসার আসন ও সুদৃশ্য ফোয়ারা। হ্রদের পাশ দিয়ে পায়ে হাঁটার পথ। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের শরীর চর্চার সুবিধার্থে প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকছে। আর বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯ টা পার্কটি বিনোদন পিপাসুদের জন্য খোলা রাখা হয়েছে সপ্তাহের সাতদিনই পার্কটি খোলা থাকবে ।

পার্ক এলাকায় দুটি গণশৌচাগার, গভীর নলকূপ ও একটি বিদ্যুতের উপকেন্দ্র রয়েছে। পার্কে প্রবেশের জন্য রয়েছে ছয়টি গেট। নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব রয়েছেন ছয়জন কর্মী। পার্ক পরিস্কার রাখতে এখানে কোনো রেস্তোঁরা রাখা হয়নি। পার্কে প্রবেশে কোনো প্রবেশ ফি নেই।

মাঠজুড়ে লাগানো হয়েছে ৬৫ প্রজাতির ১০ হাজার গাছের চারা। পার্কে লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে শিউলি, শিমুল, সোনালু, টগর, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, কাঁঠালচাঁপা, বকুল, মৌ সন্ধ্যা, নয়নতারা, জারুলসহ বিভিন্ন ফুলের গাছ। লেকের ধার দিয়ে চলে গেছে পায়ে চলার পথ, যা ব্যায়াম এবং হাঁটার উপযোগী। থাকবে ড্যান্সিং লাইট, দৃষ্টিনন্দন পানির ফোয়ারা ও একাধিক ঝরনা। নির্মিত হবে ক্যাফেটেরিয়া, আকর্ষণীয় গ্লাস ব্রিজসহ ১৩৮টি সিটিং বেঞ্চ। থাকবে গণশৌচাগার ও গভীর নলকূল। দৃষ্টিনন্দন সীমানা প্রাচীর ও ৬টি প্রশস্ত গেট। থাকছে গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থাও। সুদীর্ঘ ওয়াকওয়ে আর কম্পাউন্ড রোড মিলে ৮ হাজার রানিং ফুটের পার্কটির মাঝে ৫০ হাজার বর্গফুটের জলাধার রাখা হয়েছে। জলাধারের কিনারায় বসার জন্য তিনটি বড় গ্যালারি রাখা হয়েছে। পার্কে প্রবেশের জন্য রয়েছে ৬টি ফটক। জলাধারের পাশে রয়েছে দুইটি পাম্প হাউস। নিরাপত্তার জন্য রয়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা।

পার্কটিতে সন্ধ্যার পর বর্ণিল আলোকসজ্জায় মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি করে। মাঠজুড়ে সাড়ে পাঁচশ লাইটের পাশাপাশি নজরকাড়া দুইটি বর্ণিল ফোয়ারা রয়েছে এ পার্কে। ফলে সন্ধ্যার পর আলো ঝলমলে হয়ে ওঠে পার্কটি।
জাম্বুরী পার্কে বেড়াতে আসা দর্শনার্থী মিনার খান জানান, কেউ নিজের চোখে না দেখলে এতো সুন্দর বুঝার ক্ষমতা নেই। চট্টগ্রামের এ জাম্বুরি মাঠ এখন বিনোদন স্পটে পরিণত হয়েছে। হাঁটা বা শরীরচর্চার ক্ষেত্র শুধু নয় দেশি-বিদেশি পর্যটকদেরও দৃষ্টি কাড়বে। বিনা ফিতে উন্মুক্ত করার বিষয়টিও আমাদের জন্য আরো ভাল হয়েছে। অবসর সময়ে একটু বিনোদনে আশায় এ পার্কে আসা যাবে ।